fbpx

লিভার ক্যান্সার: লক্ষণ ও প্রতিরোধ

প্রিয়জন কিংবা আদরের ছোট্ট সোনামণিটাকে আমরা অনেক সময় “কলিজার টুকরো” বলি। আসলে আমরা কি জানি কোনটা সেই কলিজা ? আদতে কলিজা জিনিসটা হলো যকৃত বা লিভার। আপনার কলিজার টুকরো, আদরের সন্তানের ঠিক যেভাবে যত্ন নেন তেমন করে নিজের কলিজা তথা লিভারের যত্ন নেয়া হচ্ছে কি ?

তা নাহলে অজান্তেই আক্রান্ত হতে পারেন লিভার ক্যান্সার সহ লিভারের নানান রোগে।ভয় পাইয়ে দিলাম? তাহলে ভয়কে জয় করার জন্য ৫ মিনিট সময় নিয়ে লিভারের খুঁটিনাটি সম্পর্কে চলুন একটু জানার চেষ্টা করি এবং সেসব মেনে সুস্থ সুন্দর জীবন কাটাই ।

লিভার ক্যান্সার কী?

লিভার ক্যান্সার বা হেপাটিক ক্যান্সার হল সেই ধরণের ক্যান্সার, যা শরীরের অন্য কোন অঙ্গ বা অংশ থেকে লিভারে ছড়ায় না বরং লিভারেই প্রথমে হয়। লিভারের ক্যান্সার অন্য জায়গা থেকে ছড়ালে তাকে মেটাস্টেসিস বলে।

লিভারে শুরু হওয়া ক্যান্সারের তুলনায় , অন্য জায়গার ক্যান্সার লিভারে ছড়িয়ে পড়াটা(মেটাস্টেসিস হওয়াটা ) অনেক বেশী প্রচলিত। লিভার ধারাবাহিক ভাবে রক্তকে ছেঁকে সারা শরীরে সংবাহিত করে এবং পরিপাকতন্ত্র থেকে ওষুধ এবং পুষ্টি উপাদানকে শোষণ করে সহজেই ব্যবহারযোগ্য রাসায়নিকে রূপান্তরিত করে। সারা শরীরের সব রক্তকে যেহেতু লিভারের মধ্যে দিয়ে বাহিত হতে হয়, তাই সাধারণ ভাবে ক্যান্সার কোষ সহজে রক্তস্রোতে মিশতে পারে না।

লিভার ক্যান্সারের অধিকাংশই সেকেন্ডারি কিংবা মেটাস্টেটিক, অর্থাৎ যা শরীরের অন্য কোথাও শুরু হয়েছে।লিভার অসংখ্য বিভিন্ন ধরণের কোষ দিয়ে তৈরি হয়, সুতরাং এখানে বিভিন্ন ধরণের টিউমার হতে পারে। তার মধ্যে কিছু বিনাইন (ননক্যান্সারাস অর্থাৎ বিপজ্জনক নয়) এবং কিছু ক্যান্সারাস, যা শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়াতে পারে (মেটাস্টেসাইজ)।

লক্ষণঃ

প্রাইমারি লিভার ক্যান্সারের প্রথমদিকে অনেকের ক্ষেত্রেই কোন ধরণের লক্ষণ দেখা যায় না। লক্ষণ যখন দেখা যায় তখন তা হলঃ

*তলপেটে ব্যথা, অনেক সময়ে ব্যথা ডানদিকে হয় এবং সেই ব্যথা কখনও কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।

*জন্ডিসের ক্ষেত্রে ত্বক, জিভ এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়বিনা কারণে ওজন কমে যায় এবং অবসাদ।

*হেপাটোমেগালি, হেপাটো অর্থ লিভার আর মেগা অর্থ বড় হওয়া অর্থাৎ যেখানে লিভার আকারে বড় হয়ে যায় এবং পেট ফুলে যায়।

*গা গোলানো এবং এমেসিস (বমি)

*পিঠে ব্যথা এবং জ্বর

*সাধারণ চুলকানি

কারণঃ

*লিভারের কোষের ডিএনএ-তে কোন বদল বা পরিবর্তন দেখা দিলে লিভার ক্যান্সার হয়।

*এটা শরীরের প্রতিটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া সংগঠনের নির্দেশ পাঠায় এবং এতে পরিবর্তন হলে তার পাঠানো নির্দেশ বদলে যায়।ফলস্বরূপ, কোষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে টিউমার তৈরি হতে পারে। টিউমার মানে হলো অস্বাভাবিক একজাতীয় কোষের সমষ্টি, যা থেকে হয় ক্যান্সার ।

প্রতিরোধঃ

১। হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি নামক ভাইরাস প্রতিরোধ করা।

২। অ্যালকোহল বা মদ্যপান থেকে দূরে থাকা।এখন আমাদের জানতে হবে কিভাবে হেপাটাইটিস বি এবং সি-এর হাত থেকে বেঁচে থাকা যায়।

** হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি প্রতিরোধের উপায়ঃ

১। হেপাটাইটিস বি অথবা সি-তে আক্রান্ত রোগীর রক্ত গ্রহণ না করা । রক্ত দেয়া বা নেয়ার আগে সতর্কতার সাথে এসব যাচাই করা ।

২। ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ( একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়া হয় এমন প্যাকেটজাত সিরিঞ্জ) ছাড়া ইঞ্জেকশন না নেয়া ।

৩। কিছু মাদকাসক্ত লোক যারা শিরার মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করে তারা একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করে। তাদের থেকে দূরে থাকা।

৪। যৌনমিলনে কনডম ব্যবহার করতে হবে।

৫। হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। প্রত্যেকের এই ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।

৬। ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকস স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জড়িত বা কর্মরত সকলের অবশ্যই ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।

৭। হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া নামক রক্তের রোগ যাদের আছে এবং যাদের কিডনীরোগের জন্য ডায়ালাইসিস করতে হয় তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিন নিতে হবে।

স্বল্প খরচে সর্বোত্তম লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা পেতে যোগাযোগ করুন-

Cancer Home BD

রাফা মেডিকেল সার্ভিসেস, ৫৩ মহাখালী, টিবি হাসপাতালের সামনে।ঢাকা-১২১৬

যোগাযোগ: ০১৭১৫০৯০৮০৭

You May Also Like…

কভিড -১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু লোকের জন্য কম কার্যকর হতে পারে-

কভিড -১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু লোকের জন্য কম কার্যকর হতে পারে-

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এতে ডাক্তাররাও এদের...

কোরবানি ইদের খাবার ও সতর্কতা-

কোরবানি ইদের খাবার ও সতর্কতা-

ইদ হলো আনন্দের দিন, যার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। আর কোরবানির ইদের অন্যান্য খাবারের সাথে মূল আয়োজন হলো বিভিন্ন রকমের...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *