fbpx

তিন ধরণের ব্লাড ক্যান্সার- কারণ গুলো কি?

ব্লাড ক্যান্সার সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই জানি। কিন্তু কয়ধরণের ব্লাড ক্যান্সার সম্পর্কে আমরা জানি? 
সব ব্লাড ক্যান্সার এক নয়। তিন ধরণের ব্লাড ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেকটিই আলাদা ভাবে আমাদের রক্ত কণিকার উপর প্রভাব ফেলে ক্যান্সার এর উৎপত্তি ঘটায়।
তাই আগে থেকে সচেতন হতে জেনে নিন তিন প্রকার ব্লাড ক্যান্সার সম্পর্কে।  
ব্লাড ক্যান্সারগুলো রক্ত ​​কোষ এবং অস্থি মজ্জাকে প্রভাবিত করে – আমাদের হাড়ের অভ্যন্তরে স্পঞ্জি টিস্যু যেখানে রক্ত ​​কোষ তৈরি করা হয়। ব্লাড ক্যান্সার রক্ত কণিকার আচরণের এবং কার্যক্রমে পরিবর্তন আনে।  
** আমাদের দেহে তিন ধরণের রক্ত কণিকা রয়েছে। 
# শ্বেত রক্ত কণিকা- প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। 
# লোহিত রক্ত কণিকা- দেহের টিস্যু এবং অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং ফুসফুসে কার্বন-ডাইক্সাইড পৌঁছে দেয় যাতে তা প্রশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসতে পারে।  
# অণুচক্রিকা- আমাদের ক্ষত স্থানে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।  
** প্রধানত তিন ধরণের ব্লাড ক্যান্সার আছে- 
. লিউকেমিয়া
. লিম্ফোমা 
. মায়লোমা 
এসব ক্যান্সার এর ফলে মেরু রজ্জু এবং লসিকা তন্ত্রে অকার্যকর রক্ত কণিকা তৈরি করে। 
লিউকেমিয়া: 
লিউকেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে প্রচুর শেত্ব রক্ত কণিকা তৈরি হয় যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। এটি কোন ধরণের শ্বেত রক্ত কণিকাকে আক্রমণ করে এবং এর ফলে শ্বেত রক্ত কণিকা দ্রুত বাড়ে নাকি ধীরে তার উপর ভিত্তি করে চার ভাগে ভাগ করা যায়। 
১. অ্যাকিউট লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া- এটি শুরু হয় হাড়ের মজ্জার লিম্ফোসাইটস নামে শ্বেত রক্তকণিকা দিয়ে। এটিতে আক্রান্ত মানুষের দেহে অনেক বেশি লিম্ফোসাইট তৈরি হয় এতে এগুলো সুস্থ শ্বেত রক্ত কণিকার সাথে ভিড় জমায়। যদি এটির চিকিৎসা সময় মতো করা না হয় তবে দ্রুত ছড়াতে পারে। 
এই ক্যান্সার শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ৩-৫ বছর বয়সী শিশুদের এটিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া ৭৫ বছরের বেশি বয়সীরাও এটিতে আক্রান্ত হতে পারে। 
এটি আপনার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যদি- 
·        আপনার পরিবারের কোনো সদস্যের থাকলে। 
·        পূর্বে যদি অন্য কোনো ক্যান্সার জনিত কারণে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন এর মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহন করে থাকেন
·        প্রচুর রেডিয়েশনের কাছাকাছি থাকলে। 
·        ডাউন সিনড্রোম বা অন্য কোন জিনগত ব্যাধি থাকলে। 
২. অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া- এটি মাইলয়েড কোষে শুরু হয়, যা শ্বেত রক্ত কণিকা, লোহিত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকাতে বৃদ্ধি পায়। এটি তিন ধরণের রক্তকণিকারই  সংখ্যা হ্রাস করে। এই ধরণের লিউকেমিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়।  
এটি সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের হয়ে থাকে। এটি মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। 
এটি আপনার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যদি- 
·        পূর্বে যদি অন্য কোনো ক্যান্সার জনিত কারণে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন এর মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহন করে থাকেন।
·        বেনজিনের মধ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকলে। 
·        ধুমপান। 
·        মেলোডিস প্লাজিয়া বা পলিসিথেমিয়া ভেরার মতো রক্তের ব্যাধি বা ডাউন সিনড্রোমের মতো জিনগত ব্যাধি থাকলে। 
৩. দীর্ঘস্থায়ী লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া- এটি বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ধরণের লিউকেমিয়া। সকলের মতো এটি হাড় মজ্জার লিম্ফোসাইট থেকে শুরু হয় তবে এটি আরও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। 
এটিতে আক্রান্ত অনেক লোকের ক্যান্সার শুরু হওয়ার কয়েক বছর পর পর্যন্ত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এটি সাধারণত ৭০ বা তার বাশি বয়সের লোকেদের মধ্যে দেখা যায়। 
এটি আপনার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যদি- 
·        ব্লাড ক্যান্সারে পরিবারের কারো আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। 
·        যারা কীটনাশক জাতীয় রাসায়নিক নিয়ে দীর্ঘসময় কাজ করে। 
৪. দীর্ঘস্থায়ী মাইলয়েড লিউকেমিয়া- এই ব্লাড ক্যান্সারটি মাইলয়েড কোষগুলোতে শুরু হয় অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া এর মতো। তবে অস্বাভাবিক কোষগুলো ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এটি মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে কিছুটা বেশি দেখা যায়। এটি সাধারণ প্রাপ্তবয়প্সকদের মধ্যে দেখা যায়। তবে মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মধ্যেও দেখা যায়। আপনি যদি উচ্চ মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার কাছাকাছি থাকেন তবে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 
লিম্ফোমা:  
এটি লসিকা তন্ত্রের একটি ক্যান্সার। এই তন্ত্রে লিম্ফ নোডস, প্লীহা এবং থাইমাস গ্রন্থি রয়েছে। এই তন্ত্র শ্বেত রক্তকণিকা সংরক্ষণ করে এবং বহন করে আমাদের দেহের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। লিম্পোমাস শ্বেত রক্তকণিকায় শুরু হয় যার নাম লিম্ফোসাইটস। 
প্রধানত দুই ধরণের লিম্ফোমা রয়েছে- 
১. হজকিনের লিম্ফোমা- এটি প্রতিরোধক কোষ গুলোতে শুরু হয় যার নাম বি লিম্ফোসাইট বা বি কোষ। এই কোষগুলো অ্যান্টিবডি নামক প্রোটিন তৈরি করে যা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। হজকিনের লিম্ফোমা যুক্ত মানুষদের লিম্ফ নোডগুলোতে বড় লিম্ফোসাইট থাকে যার নাম রিড-স্টার্নবার্গ কোষ। 
 ২. নন-হজকিনের লিম্ফোমা- এটি শুরু হয় বি কোষ বা অন্য কোনো ধরণের প্রতিরোধক কোষে যার নাম টি কোষ। হজকিনের লিম্ফোমার চেয়ে নন-হজকিনের লিম্ফোমা বেশি দেখা যায়। 
 এই দুই ধরণের ক্যান্সারই আরো কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। এগুলোকে ভাগ করা হয় ক্যান্সার কিভাবে শুরু হয়েছিল এবং এর পরবর্তী আচরণের উপর ভিত্তি করে। লিম্ফোমা প্রায় ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ৫০ বছর এর চেয়ে বেশি বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়। 
 মায়লোমা:
এটি হাড়ের মজ্জার প্লাজমা কোষগুলোর একটি ক্যান্সার। প্লাজমা কোষগুলো এক ধরণের শ্বেত রক্ত কোষ যা অ্যান্টিবডি তৈরি করে। মায়লোমা কোষগুলো অস্থি মজ্জার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 
 এগুলো আমাদের হাড়ের ক্ষতি করে এবং সুস্থ্য রক্তকণিকার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এই কোষগুলো এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। এটিকে মাল্টিপোল মায়লোমাও বলা হয়। কারণ এটি আমাদের অস্থি মজ্জার অনেক অংশেই পাওয়া যায়। ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 
এটি আপনার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যদি- 
·        যদি পরিবারে অন্যকারো মায়লোমা থেকে থাকে।  
·        যদি ওজন বেশি হয়। 
·        তেজস্ক্রিয়তার আশেপাশে বেশি সময় কাটালে। 
 

কম খরচে ব্লাড ক্যান্সারসহ সব ধরণের ক্যান্সারের চিকিৎসা পেতে যোগাযোগ করুন- 
Cancer Home BD
রাফা মেডিকেল সার্ভিসেস, ৫৩ মহাখালী, টিবি হাসপাতালের সামনে।ঢাকা-১২১৬
যোগাযোগ: ০১৭১৫০৯০৮০৭

You May Also Like…

কভিড -১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু লোকের জন্য কম কার্যকর হতে পারে-

কভিড -১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু লোকের জন্য কম কার্যকর হতে পারে-

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এতে ডাক্তাররাও এদের...

কোরবানি ইদের খাবার ও সতর্কতা-

কোরবানি ইদের খাবার ও সতর্কতা-

ইদ হলো আনন্দের দিন, যার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। আর কোরবানির ইদের অন্যান্য খাবারের সাথে মূল আয়োজন হলো বিভিন্ন রকমের...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *