fbpx

মাল্টিপল মায়েলোমা কী?

মাল্টিপল মায়েলোমা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:

দাদীর কাছে ছোটবেলায় জাপান আর বৃটিশের যুদ্ধের গল্প শুনতাম খুব। বড় হয়ে জানলাম ঐটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিলো। আরো জানলাম হিরোশিমা নাগাসাকিতে সেই নিষ্ঠুরতম পারমাণবিক বোমা হামলার কথা।

গবেষণায় দেখা গেছে, পারমাণবিক বোমার কারণে এখনো হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বিকলাঙ্গ শিশু জন্মের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা এবং মাল্টিপল মায়েলোমা তে আক্রান্ত। তিনটাই রক্তের ক্যান্সার ।

আজ আমরা জানবো মাল্টিপল মায়েলোমা সম্পর্কে ।

🧿 মাল্টিপল মায়েলোমা কী?

এটি একটি ব্লাড ক্যান্সার। দুর্লভ ব্লাড ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তবে আশানুরূপ বিষয় হচ্ছে, এর চিকিৎসাক্ষেত্রে সুদুরপ্রসারি বিস্তার লাভ করেছে।

আমাদের শরীরের রোগ জীবাণু কে প্রতিরোধ করার জন্য এক ধরনের কোষ থাকে। যাদের দেহের প্রহরীও বলা হয়। এই ধরনের কোষকে বলা হয় শ্বেত রক্তকণিকা। শ্বেত রক্তকণিকার একটা প্রকারভেদ হলো লিম্ফোসাইট। এই লিম্ফোসাইট থেকে আসে প্লাজমা সেল।

প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য আমাদের শরীরে যে অ্যান্টিবডি প্রয়োজন যা এই প্লাজমা সেল নিয়ন্ত্রণ করে। প্লাজমা সেল এর ক্যান্সার হলে তখন তাকে মাল্টিপল মায়েলোমা বলা হয়। এখানে মায়েলোমা মানে অস্থিমজ্জা। আর মাল্টিপল কারণ হাড়ের বিভিন্ন জায়গায় বিস্তার লাভ করে। তাই এটি সাধারণত হাড়ের অস্থিমজ্জার (Bone Marrow) ভেতরেই হয়।

আমাদের অস্থিমজ্জায় প্লাজমা সেল ছাড়াও অন্যান্য যেমন: লোহিত কণিকা, শ্বেতকণিকা, অনুচক্রিকা তৈরীর মাতৃকোষগুলো থাকে, যা পরবর্তীকালে নির্দিষ্ট সময় পরে পরিপক্ক হয়ে আমাদের রক্ত সংবহনতন্ত্রে চলে আসে এবং তারা তাদের নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে।

প্লাজমা সেল এর অস্বাভাবিক বিভাজনের কারণে সে এইসব মাতৃকোষগুলোকে আর জায়গা দিতে চাইবে না, ফলে অন্যান্য কোষগুলোর ঘাটতি দেখা দেবে।

এতে রক্তশূন্যতা, ঘনঘন সংক্রমণ, রক্ত ক্ষরণজনিত সমস্যা হবে এবং যখন প্রক্রিয়াটি অস্থিমজ্জায় চলতেই থাকে তখন এটি হাড়ের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে।

এর মানে হচ্ছে প্লাজমা সেলটি এতই বাড়বে; সেটি অস্থিমজ্জা থেকে বের হয়ে হাড়কে গলিয়ে সম্পূর্ণ বাইরে বের হয়ে আসবে- ঠিক যেমনটি কাঠের ঘুণপোকায় আক্রান্ত কুঠুরির মতো, এর মানে এক্স -রে তে ছোট ছোট ছিদ্র বোঝা যাবে।

তাছাড়া বিভিন্ন স্পঞ্জি হাড়ের উপরের শক্ত আবরণ পাতলা হয়ে যায়, এতে হাড়ের ভঙ্গুর হবার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায় (ডিমের খোসার মতো ভঙ্গুর হয়ে যায়)। এজন্য শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা জনিত লক্ষণ সব সময়ই থাকে।

🧿 ক্যান্সার সৃষ্টি হবার কারণ কী?

এই নির্দিষ্ট কোন কারণ জানা যায়নি। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের যেসব মানুষ তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হয়েছে, পরে তাদের অনেকেরই এই ক্যান্সার হয়েছে।

কিন্তু এখন অন্য যাদের হয় তাদের কারণ কী?

পরিবেশগত কোন জেনেটিক মিউটেশন। আবার যারা পেট্রোলিয়াম বা কার্বন নিয়ে কাজ করে, কৃষক, কাঠ ও চামড়ার কাজ করে তাদের ঝুঁকি বেশি।চিকিৎসকদের মতে মাল্টিপল মায়োলেমা ৪০ বছরের নিচে সাধারণত হয় না, বয়স যত বাড়ে ঝুঁকিও তত বেশি, সবচেয়ে বেশি হয় ৭০ বছর বয়সের পর।

🧿 এ রোগের লক্ষণগুলো কী কী?

👉 হাড়ের অসহ্য ব্যথা- ফলে রোগী যখনই নড়াচড়া করে তখনই ব্যথা বাড়ে। হাড়ের অন্যান্য ক্যান্সারেও ব্যথা হয়, তার সাথে এর প্রধান পার্থক্য হল হাড়ের অন্যান্য ক্যান্সার রোগে ব্যথা বাড়ে বিশ্রামে, নড়াচড়ায় কিছুটা আরাম পায়, আর মাল্টিপল মায়েলোমায় হয় এর ঠিক উল্টোটা।

👉 হাড়ের কর্টেক্স বা বাহিরের শক্ত আবরণ টি পাতলা হয়ে যায়, তখন সহজেই হাড়টি ভেঙে যায় (ফ্র‍্যাকচার)।

🧿 ফ্র্যাকচার হলে বোঝা যাবে কিভাবে?

👉 রোগীর সারা শরীরে ব্যথার সাথে হঠাৎ কোনো এক জায়গায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, হাড়ের নাড়াচাড়ায় সমস্যা হতে পারে। আর যদি মেরুদন্ড ফ্র্যাকচার হয় তবে স্পাইনাল কর্ড আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন লক্ষণ এর সাথে একটি প্রধান লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন: পায়খানা-প্রস্রাবের উপর নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যাওয়া।

👉 হাড় ভঙ্গুর হয়ে এরমধ্যে জমা ক্যালসিয়াম গুলো ক্ষয় হয়ে চলে আসবে রক্তে, তখন রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাবে আর এ কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব এবং পানির পিপাসার মত লক্ষণ দেখা দেবে।

👉 অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের চাপ ও ব্যথা কমানোর জন্য রোগীরা নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খেতে খেতে কিডনির বারোটা বাজাবে, এর কারনে হবে রেনাল ফেইলুর। মাল্টিপল মায়েলোমায় বেশিরভাগ রোগী কিডনির সমস্যা নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি হন।

অন্যদিকে রক্তে ক্যালসিয়ামের আধিক্যের কারণে কিছু লক্ষণ দেখা দিবে:

১. হাড়ে ব্যথা

২. কিডনিতে পাথর

৩. পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য

৪. ডিপ্রেশন, কনফিউশন (মানসিক দিক থেকে)

🧿 মাল্টিপল মায়েলোমায় রোগী সবচেয়ে বেশি মারা যায় কিসে?

খুব সহজেই বলতে পারি, ঘন ঘন সংক্রমণে। এর কারণ হলো সংক্রমনের বিরুদ্ধে দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা।এর ফলে বেশি হয় নিউমোনিয়া, প্রস্রাবে ইনফেকশন, কিডনি ইনফেকশন, স্কিন ও সফট টিস্যু ইনফেকশন ইত্যাদি।

🧿 প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কী কী?

১. Bone marrow exam, CBC, PBF

২. Serum and/or urinary M-protein

৩. X-Ray, MRI

🧿 চিকিৎসা পদ্ধতি:

No Symptoms, No Treatment.লক্ষণ থাকলে তবেই চিকিৎসা।

১. কেমোথেরাপি হলো স্পেসিফিক চিকিৎসা যা ক্যানসার কোষের বিভাজন কমাবে, কমবে এবনরমাল প্রোটিন তৈরি হওয়া।

এরূপ পুরোপুরি ভালো হবে না। মনিটর, কেমো, মনিটর, কেমো! এভাবে চলবে যে কদিন চলে। রোগীর বয়স কম হলে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা যায়, এতেও পুরোপুরি ভালো হবে না, তবে তুলনামূলক ভালো থাকবে।

২. হাড়ের ভঙ্গুরতা কমানোর জন্য রেডিওথেরাপি দেওয়া যায়।

৩. হাড়ের ক্ষয় হয়ে রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়।

৪. নিউমোনিয়ার আক্রমণ কমাতে নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন প্রতি পাঁচ বছরে একবার দেওয়া উচিত।

৫. পানি ও তরল খাবার বেশি খাওয়া, এতে রক্তের ঘনত্ব তা কিছুটা কমবে, কমবে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা টাও।

আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ রোগের একটি অনবদ্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রোগীর উপর কোনরূপ খারাপ প্রভাব ছাড়াই রোগ নিরাময়ে যথেষ্ট সাহায্য করে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে নিরাময়ের মাত্রা বেড়ে যায়।

চিকিৎসা পদ্ধতিটি হচ্ছে-

বায়ো থেরাপি। এটির কেমোথেরাপির মত শরীরে বিরূপ প্রভাব নেই বললেই চলে।

🩺 কম খরছে মাল্টিপল মায়েলোমা সহ যেকোনো ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা পেতে যোগাযোগ করুন-

Cancer Home BD

রাফা মেডিকেল সার্ভিসেস, ৫৩ মহাখালী, টিবি হাসপাতালের সামনে।ঢাকা-১২১৬

যোগাযোগ: ০১৭১৫০৯০৮০৭

You May Also Like…

কভিড -১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু লোকের জন্য কম কার্যকর হতে পারে-

কভিড -১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু লোকের জন্য কম কার্যকর হতে পারে-

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এতে ডাক্তাররাও এদের...

কোরবানি ইদের খাবার ও সতর্কতা-

কোরবানি ইদের খাবার ও সতর্কতা-

ইদ হলো আনন্দের দিন, যার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। আর কোরবানির ইদের অন্যান্য খাবারের সাথে মূল আয়োজন হলো বিভিন্ন রকমের...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *