fbpx

রমজানে সেহেরি ও ইফতারে কি কি খাবেন এবং কি কি খাবার এড়িয়ে যাবেন?

🕌এই রমজানে সুস্থ থাকতে সেহরি ও ইফতারে কী খাবেন? কী খাবেন না?

✨পবিত্র মাহে রমজান মাস চলছে। হাসপাতালে প্রতিদিন ৪-৬ জন রোগীকে আমি নিজে ডায়রিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছি । এর কারণ আর কিছুই নয়, রোজা রেখে সঠিক নিয়মে খাবার না খাওয়া।

ডাক্তার হিসেবে তাই মনে হলো রমজানে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একটু আলোচনা করা দরকার।

প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম সূর্যোদয় থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার করা থেকে বিরত থাকেন এই সময়ে। এখন আমাদের দেশে প্রায় ১৫ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে এবং সাথে চলছে গরমের দাবদাহ ও করোনা মহামারি। এই অবস্থায় রোজা রেখে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া এবং সুস্থ থাকা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।

রোজায় আমাদের অসচেতনতার কারণে আমরা কখনও কখনও পানিশূন্যতা, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, রক্তের সুগার কমে যাওয়া, অত্যধিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হই। একটু সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই পুরো রমযান মাস আমরা ভাল থাকতে পারি। যারা ওজন কমাতে বা বাড়াতে চাই তাদের জন্যও রমযান মাস নিয়ে আসে সূর্বণ সুযোগ। তবে অবশ্যই আমাদের খেতে হবে এমন সব পুষ্টিকর খাবার যে খাবারগুলো সারাদিন রোজার পরে আপনাকে দিবে পরিপূর্ণ পুষ্টি এবং স্বাচ্ছন্দ্য। সেই সাথে আপনাকে সুস্থ রাখবে। পাশাপাশি দূর করতে হবে সেই সব খাদ্যাভ্যাস যা আপনাকে তৃষ্ণার্ত, ক্লান্ত অথবা তন্দ্রার রেশ এনে দেয়।

🔯সেহেরীঃ সেহেরীর সময় হচ্ছে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার, তাই এটি যেন কোন ভাবেই বাদ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদিও সারা দিনের ক্ষুধা সেহেরীর মাধ্যমে নিবারণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা যদি খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু খেয়াল রাখি তাহলে অনায়াসেই ক্ষুধাকে বিলম্বিত করতে পারি।

🔯সেহেরীতে যা খাবেনঃ সেহেরীর খাবার নির্বাচনে নজর দিতে হবে আমিষ, জটিল শর্করা ও খাদ্য আঁশের প্রতি। সেহেরীতে যা খাওয়া ভালো আর তা হচ্ছে-

✅লাল চালের ভাত এক থেকে দেড় কাপ

✅মিক্সড সবজি ১ কাপ,

✅মাছ অথবা মুরগী ১ টুকরা,

✅ডাল ১ কাপ

✅সাথে দই অথবা ননী বিহীন দুধ ১ কাপ।

🔯সেহেরীতে যা খাবেন নাঃ

❌ভাজা পোড়া খাবার খাবেন না।

❌সেহেরিতে অতিমাত্রায় চা পান করবেন না।

❌প্রতিদিন মাংস খাওয়া যাবে না।

❌সাহরিতে খুব বেশি খাওয়া বা সাহরি না খাওয়াও ঠিক না।

☪️ইফতারঃ আমাদের দেশে ইফতার মানে খাবারের উৎসব। আমরা যা সারাবছর খাই না তা রোজার মাসে রোজা রেখেই খেয়ে ফেলি। কিন্তু রোজা আসলে ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিকভাবে এক ধরনের ডিটক্সিফিকেসন বা পরিশোধন বা পরিষ্কার পদ্ধতি যা আমাদের দেহ থেকে সারাবছরের ময়লা বা বর্জ্য দূর করে। অতিরিক্ত ভোজন করলে তা আর হয় না বরং আরও ক্ষতি-সাধিত হয়। রমযান মাসে অন্যসব মাসের মতই খেতে হবে। বেশি ডুবো তেলে ভাঁজা খাবার খাওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে বা খেতে হলে অল্প তেল দিয়ে ভাঁজা খাবার খাওয়া যাবে তবে তাও পরিমাণ মত।

☪️ইফতারে যা খাবেনঃ সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা মেনে চলতে একজন মানুষকে রোজার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে-

✅ইফতারে দু-তিনটা খেজুরই শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে দিতে পারে।

✅পানি পান করতে হবে প্রচুর পরিমাণে।

✅লেবুর শরবত শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

✅চিড়া-দই

✅লাল আটার রুটি,

✅নুডুলস,

✅নরম খিচুড়ি

✅কালোজিরা খেতে পারেন। কালোজিরার গুনাগুণ সম্পর্কে আমাদের নবী ১৪০০ বছর আগেই বলেছে মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ হল এই কালোজিরা।

☪️ইফতারে যা খাবেন নাঃ

❌ছোলা ভুনা

❌পেঁয়াজি, বেগুনি এবং চপ

❌হালিম ও বিরিয়ানি

❌কৃত্রিম রঙ মেশানো শরবত

✡️সন্ধ্যারাতের খাবারঃইফতারির ভুঁড়িভোজের পর স্বাভাবিকভাবেই রাতের খাবার খেতে খেতে বেশ রাত হয়ে যায়। আর রাত যত বাড়তে থাকে আমাদের পরিপাকক্রিয়ার ক্ষমতা ততই কমে আসতে থাকে। এ কারণে রোজার সময়টাতে রেডিমিট বা মাংসের তৈরি রান্না একটু এড়িয়ে চলাই ভালো।

রাতের খাবার তালিকায় –

✅মাছ সঙ্গে ভাত বা রুটি

✅সবজি

✅ডাল

✅যেকোনো ফলরোজায় দীর্ঘ সময় উপবাসের কারণে শরীরে পানির অনেক চাহিদা থাকে।

সেহরী খাওয়ার পর যেন ৩-৪ গ্লাস পানি খেতে পারবেন এমন সময় হাতে রেখে খাবার গ্রহণ করুন। আবার ইফতারি থেকে সেহরী পর্যন্ত ৭-৮ গ্লাস পানি পান করুন। এতে অ্যাসিডিটির সমস্যা হবে না।অনেকেই বলেন রোজা রাখতে পারি না এসিডিটি হয়। আসলে ইফতার ও সেহরিতে অতিরিক্ত তেল মসলা জাতীয় খাবার খেলে এই সমস্যা হয়। তাই এই রমজানে স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং সুস্থ শরীরে এই বরকতময় মাস পার করুন।

🩺ক্যান্সারের চিকিৎসায় আপনাদের পাশে আছে-

Cancer Home BD

রাফা মেডিকেল সার্ভিসেস, ৫৩ মহাখালী, টিবি হাসপাতালের সামনে।ঢাকা-১২১৬

যোগাযোগ: ০১৭১৫০৯০৮০৭

You May Also Like…

কোলন ক্যান্সার রোগী কী খাবেন:

কোলন ক্যান্সার রোগী কী খাবেন:

শুধু স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ডায়েট মেনে চলতে হয় এমন কিন্তু নয়। কোনো রোগে আক্রান্ত হলেও একটা নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *