fbpx

জন্ডিস নাকি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার! লক্ষণ গুলো কী?

❓জন্ডিস নাকি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার! বুঝবেন কীভাবে?

💉মিনা কয়েক দিন ধরেই বলছে তার পেটে ব্যথা করে। এটা শুনে তার বাবা তাকে ফার্মেসি থেকে কিছু পেটে ব্যথার ওষুধ এনে দিল। মিনার শরীরের চামড়ার রঙ ও কিছুটা হলুদ বর্ণের হয়ে গেছে।তার খাবারে রুচি নেই, খেলেও বদহজম হচ্ছে। আগের চেয়ে অনেক চিকন হয়ে গেছে, খুব অল্প সময়ে তার ওজন কমে গেছে মনে হচ্ছে। তার মা দেখে জন্ডিস বলে মনে করেন। ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার কিছু পরীক্ষা দেয় যা করতে অনেক টাকা খরচ হবে।

তাই তারা কম খরচে চিকিৎসা করতে হাতুড়ে ডাক্তার এর শরণাপন্ন হন। সেই ডাক্তার এটাকে সাধারণ জন্ডিস ভেবে কিছু ওষুধ দেন। সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় মিনার রোগটি এখন মারাত্মক আকার ধারণ করে।

যার ফল দাঁড়ালো, মিনার অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারে জর্জরিত। তাহলে ভুল টা কোথায়? কীভাবে হলো? চলুন জানার চেষ্টা করি।

প্রথমে যে ব্যাপারটা আমাদের জানা দরকার, তা হলো জন্ডিস কোন রোগ নয়, রোগের লক্ষণ মাত্র।

মিনার জন্ডিস হয়েছে সত্য। তবে এই জন্ডিস হয়েছে কোন একটা রোগের লক্ষণ হিসেবে। যেমন, তার ওজন কমে যাওয়া, বদহজম হওয়া, পেটব্যাথা এসব স্বাভাবিক ভাবে জন্ডিসের সাথে হয়না।

এজন্য তার পরিবারের উচিত ছিলো ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া জন্ডিস এবং অন্যান্য উপসর্গগুলো কোন রোগের কারণে দেখা দিয়েছে।

এটাই আমাদের সমাজের বাস্তবতা। আমাদের সামান্য অসচেতনতা আমাদের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মিনার পরিবারের মতো আপনি ভুল না করার জন্য এই রোগটি সম্পর্কে জেনে নিন।

💉প্যানক্রিয়াটিক বা অগ্নাশয়ের ক্যান্সার কী?

অগ্ন্যাশয়ে অতি ক্ষতিকর (ক্যান্সার রোগাক্রান্ত) কোষের বৃদ্ধি পাওয়াকেই প্যানক্রিয়াটিক বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার বলা হয়। এটি সাধারণত মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়। প্যানক্রিয়াটিক বা অগ্নাশয়ের ক্যান্সার হয় যখন পাকস্থলীর পিছনের একটি গ্রন্থি “অগ্নাশয়ের” কোষসমূহ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে একটি পিণ্ড সৃষ্টি করে।

এই ক্যান্সার কোষগুলো শরীরের অন্য অংশে আক্রমণ করতে পারে। অগ্নাশয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হতে পারে যাদের মধ্যে অগ্নাশয়ের আডেনোকারসিনোমা হয় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮৫%, এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার বলতে অনেক সময় এই কান্সারকেই বোঝানো হয়।

💉 উপসর্গ ও লক্ষনগুলো হলোঃ

*চামড়া হলুদ হয়ে যাওয়া,

*পেটে বা পিঠে ব্যাথা,

*ব্যাখ্যাতীত ওজন হারানো,

*ফ্যাকাশে রঙের পায়খানা,

*গাঢ় রঙের প্রস্রাব,অরুচি।

রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত উপসর্গগুলো প্রকাশ পায় না। রোগ নির্ণয় হতে হতে প্রায়শই তা দেহের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।অধুমপায়ী যারা স্বাভাবিক ওজনের এবং যারা লাল বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খায় না তাদের মধ্যে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কম। রোগ হবার সম্ভাবনা ধূমপান ছাড়ার ২০ বছর পর অধুমপায়ীর সমপর্যায়ে চলে আসে।

💉 চিকিৎসাঃ

শল্য চিকিৎসা, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, উপশমক চিকিৎসা বা সবগুলোর সমন্বয়ে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসা মূলত ক্যান্সারের স্তরের উপর নির্ভর করে। শল্য চিকিৎসা হচ্ছে একমাত্র চিকিৎসা যা অগ্নাশয়েরআডেনোকারসিনোমা নির্মূল করতে পারে, এবং নির্মূল সম্ভব না হলেও জীবনের মান উন্নত করতে পারে। ব্যাথা নিরাময় এবং হজমে সাহায্যকারী ওষুধ লাগতে পারে। নির্মূলের লক্ষ্য থাকলেও উপশমক চিকিৎসা দিতে হবে।

🩺 অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারসহ সব ধরণের ক্যান্সারের চিকিৎসা পেতে যোগাযোগ করুন-

Cancer Home BD

রাফা মেডিকেল সার্ভিসেস, ৫৩ মহাখালী, টিবি হাসপাতালের সামনে।ঢাকা-১২১৬

যোগাযোগ: ০১৭১৫-০৯০৮০৭

You May Also Like…

কোলন ক্যান্সার রোগী কী খাবেন:

কোলন ক্যান্সার রোগী কী খাবেন:

শুধু স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ডায়েট মেনে চলতে হয় এমন কিন্তু নয়। কোনো রোগে আক্রান্ত হলেও একটা নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *