fbpx

কেন খাবেন ভিটামিন সি যুক্ত খাবার?

🟡করোনা কালে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার কতোটা উপকারী? জেনে নিন।

চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালে হানা দিয়েছিলো করোনা ভাইরাস। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা পৃথিবীতে। দিন,মাস,বছর পেরিয়ে আজ ২০২১ এ পরিসংখ্যান বলছে এতটুকু কমেনি এই ভাইরাসের তান্ডব।

এখন পর্যন্ত প্রায় বত্রিশ লক্ষ লোক মারা গেছে করোনায়। প্রতিদিন সে তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরো হাজার হাজার নাম।

করোনার শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন প্রতিদিন ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খাওয়ার জন্য। ভিটামিন-সি আমাদের শরীরকে ভাইরাস থেকে সরাসরি বাঁচাবে বলবোনা। তবে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে যা ভাইরাসকে প্রতিহত করবে।

ভিটামিন সি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে। ক্ষত নিরাময়ের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ভিটামিন সি ত্বক ও দেহকে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখে।

🟢ভিটামিন-সি এর অভাবে যে সমস্যা গুলো দেখা দিতে পারে:

🔵ফ্যাকাশে ত্বক- ত্বকের লাবণ্যতা ধরে রাখে ভিটামিন সি। ভেতর থেকে ত্বক রাখে কোমল ও মসৃণ। ভিটামিন সি এর অভাবে ত্বক খসখসে ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শীতকালে অনেকেরই ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। এই সমস্যা কেবল আবহাওয়ার শুষ্কতার কারণেই না, ভিটামিন সি এর অভাবেও হতে পারে।

🔵ঠান্ডার সমস্যা- ঠান্ডা, কাশি, জ্বরজ্বর ভাব, গলাব্যথা- এই সমস্যাগুলো সাধারণ সমস্যা বলেই অনেকে ধরে নেন। ঋতু পরিবর্তনের কারণে এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে যাদের ভিটামিন সি এর অভাব আছে তারাই এই সমস্যাগুলোতে ভোগেন বেশি। কারণ জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা তখন শরীরের থাকে না। ফলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়।

🔵বিবর্ণ চুল- ভিটামিন সি এর অভাবে চুলের রং পরিবর্তন হয়ে লালচে হয়ে যায় ও শুষ্কতা দেখা দেয়। এছাড়া চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত চুল ঝরে।

🔵অ্যানিমিয়া দেখা দেয়- অল্প কাজ করেই হাঁপিয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ, মাথাব্যথা, হঠাত্‍ চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যাগুলো অ্যানিমিয়ার লক্ষণ। *ভিটামিন সি এর অভাবে অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

🔵দাঁতের সমস্যা- দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন সি। সামান্য আঘাতে মাড়ি দিয়ে রক্ত ঝরলে কিংবা দাঁতের রং হলুদ হলে বুঝতে হবে দাঁতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে বেশি করে।

🔵ভিটামিন সি জাতীয় খাবার- লেবু ও লেবুজাতীয় টক ফল ভিটামিন সি এর চমত্‍কার উত্‍স। আঙুর, কমলা, মালটা, আনারস, পেঁপে, জাম ইত্যাদি ফলে ভিটামিন সি আছে। সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। পুদিনা পাতা ও কাঁচা মরিচেও ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি এর অভাবজনিত যেকোন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিত্‍সকের কাছে যেতে হবে। মনে রাখা ভালো, এই সমস্যাগুলো শুধু ভিটামিন সি এর অভাবে নয়, অন্য কোন কারণেও দেখা দিতে পারে। রোগের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চিকিত্‍সকের কাছে যেতে হবে।

🟣ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর যেভাবে প্রভাব ফেলে:

● ভিটামিন সি বিভিন্নভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ (ইমিউন) ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। এটির অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট কার্যক্রম প্রদাহ কমায়, যা ইমিউন কার্যক্রম উন্নত করতে সাহায্য করে।

● ভিটামিন সি কোলাজেন (বিশেষ ধরণের প্রোটিন) উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে সুস্থ রাখে ও শরীরের ভেতর ক্ষতিকর কিছুর প্রবেশে বাধাদানে সহায়তা করে। ভিটামিন সি ত্বকের ক্ষত নিরাময় দ্রুত করে।

● ভিটামিন সি ফ্যাগোসাইটের কার্যক্রমও বাড়াতে পারে। ফ্যাগোসাইট হচ্ছে রোগ প্রতিরোধক কোষ, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য কণাকে গিলে ফেলতে পারে।

● এ ছাড়া ভিটামিন সি লিম্ফোসাইটের (এক প্রকার শ্বেত রক্তকণিকা) বৃদ্ধি ও বিস্তার বাড়াতে পারে। লিম্ফোসাইট রক্তের বহিরাগত এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও বিষাক্ত পদার্থকে আক্রমণ করতে অ্যান্টিবডি ও প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি গ্রহণ করুন।

🟠কোন খাবার থেকে কতটুকু ভিটামিন-সি পাওয়া যায়? প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দরকার হয়।

🍋মাঝারি একটা কমলালেবু খেলেই প্রয়োজনের ৭৭ শতাংশ পূরণ হয়ে যায়।

🍋এক কাপ রান্না করা ব্রকোলি খেলে পাওয়া যায় ১১০ শতাংশ।

🍋ভিটামিন সি আছে শাক-সবজি-ফলেও।

🍋ভাতের পাতে স্রেফ একটা কাঁচা লঙ্কা খেলে পাবেন ১২১ শতাংশ।

🍋একটা পেয়ারায় ভিটামিন সি আছে ১৪০ শতাংশ।

🍋আধকাপ হলুদ বেলপেপার দেবে ১৫২ শতাংশ।

🍋সকালে পাতিলেবুর রস খেলে সারাদিনের প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ, ওখান থেকেই চলে আসবে।

🍋আমলকি খেলে তো কথাই নেই। কাজেই সুষম খাবার খেলে ভিটামিন সি নিয়ে আলাদা করে ভাবার দরকার নেই।

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে কোনও ভিটামিনের অতিরিক্ত সেবন শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই এটা কখনওই ঠিক নয় যে ভিটামিন যত খাব তত ভালো। আপনাকে বুঝতে হবে আপনার শরীর কতটা ভিটামিন সি নিতে সক্ষম। যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ত মানুষের দিনে ৬৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি শরীরে প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি তার মাত্রা হতে পারে দিনে ২০০০ মিলিগ্রাম। তবে অন্য ভিটামিনের মতো শরীরে ভিটামিন সি বিষ হয়ে জমে থাকে না।

🟡কী কী হতে পারে অতিরিক্ত ভিটামিন সি শরীরে গেলে?

পাকস্থলীর সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে:আপনি ফ্যাট কমানোর জন্য বা সর্দি-কাশি তাড়াতে যদি বেশি করে ভিটামিন সি খান, তবে শরীরের অপ্রয়োজনীয় ভিটামিন সি শরীর থেকে মল-মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তবে দিনে ২০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি পাকস্থলীর সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এমনকী তা ডায়েরিয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে।

কিডনিতে পাথর:অনেকে ভাবেন এর থেকে কিডনিতে পাথর হয়। পাথর বা স্টোন তৈরি হয় ক্যালসিয়াম অক্সালেটস হতে। ভিটামিন সি-তে কিন্তু অক্সালেটস রয়েছে। তা থেকে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।সবশেষে বলবো পরিমিত ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খান, সুস্থ থাকুন।

🩺 ক্যান্সারের চিকিৎসায় আপনাদের পাশে আছে-

Cancer Home BD

রাফা মেডিকেল সার্ভিসেস, ৫৩ মহাখালী, টিবি হাসপাতালের সামনে।ঢাকা-১২১৬

যোগাযোগ: ০১৭১৫০৯০৮০৭

You May Also Like…

কোলন ক্যান্সার রোগী কী খাবেন:

কোলন ক্যান্সার রোগী কী খাবেন:

শুধু স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ডায়েট মেনে চলতে হয় এমন কিন্তু নয়। কোনো রোগে আক্রান্ত হলেও একটা নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *