fbpx

প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার আক্রান্ত স্থানকে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ন রূপে কেটে বাদ দিয়ে শরীরকে ক্যান্সার মুক্ত করা যায়। অধিকাংশ ক্যান্সার এর ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় শল্য চিকিৎসায় সম্পূর্ন নিরাময়ের সম্ভাবনা সর্বাধিক।

শল্য চিকিৎসা বা সার্জারি কী?

শল্য চিকিৎসা মানে হল অস্ত্রপ্রাচার বা অপারেশন। প্রাচীন ভারতে সার্জারিকে বলা হতো শল্যতন্ত্র। শল্য মানে বোঝাতো অস্ত্র বা যন্ত্র। আর তন্ত্র অর্থ হচ্ছে প্রক্রিয়া/ পদ্ধতি। সার্জারিকে হাতের কাজ হিসেবে ধরা হয়। সার্জারি (Surgery) শব্দটা এসেছে গ্রিক শব্দ “Cheirourgia” থেকে। “Cheir” অর্থ হাত এবং “Ergon” অর্থ কাজ।

যে কোন সার্জারিতে মূলত তিনটি অসুবিধা।

১. রক্তপাত (Bleeding)

২. ব্যথা (Pain)

৩. সংক্রমণ (Infection) এই তিনটি জিনিসের সাথে যুদ্ধ করেই আজ আধুনিক শল্য চিকিৎসার উদ্ভাবন।

প্রাচীনকাল থেকে সার্জারির জন্য বিভিন্ন সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা হয়। ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকায় ক্ষতস্থান উইপোকা বা গুবরেপোকার মাধ্যমে সেলাই করা হতো! (ক্ষতস্থানে পোকাগুলো কামড় দিলেই মাথাটা সেখানে রেখে বাকি দেহ ফেলে দেওয়া হতো, যা অনেকটা স্টেপলারের মতো কাজ করত। মায়ান সভ্যতা নিয়ে মুভি Apocalypto-তেও ব্যাপারটা দেখানো হয়েছে)। মায়ানদের মধ্যে দাঁতের ক্যাভিটিতে মূল্যবান পাথর ভরে ডেন্টাল সার্জারি করার উদাহরণও আছে।

সবচেয়ে প্রাচীন সার্জারি হিসেবে ধরা হয় Trepanning খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সালের দিকে মাথার খুলি ফুটো করে ইনট্রাক্রেনিয়াল প্রেসার কমিয়ে মাইগ্রেনসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হতো। একেই বলা হয় Trepanning প্রাচীনকালে গ্রিকদের একটি আবিষ্কার ছিল Blood letting এই পদ্ধতিতে, রোগীর শরীর থেকে কিছু রক্ত বের করে নেওয়া হতো। তাঁদের ধারণা ছিল- মানুষের শরীর চারটি মোলিক উপাদানে গঠিত- মাটি, আগুন, পানি, বাতাস।

এগুলো থেকে চারটি দেহরসের সৃষ্টি হয়- কালো পিত্ত (Black bile), হলুদ পিত্ত (Yellow bile), শ্লেষ্মা (Phlegm) এবং রক্ত (Blood)। সমস্ত প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যার ভিত্তিই ছিল এই যে, এই চারটি দেহরসের কোনো একটির মাত্রা বেড়ে গেলেই রোগের সৃষ্টি হয়। আবার পরিমাণ আগের মাত্রায় আনলেই রোগ সেরে যায়। তাই কিছুটা রক্ত বের করে দেওয়াই এর সমাধান!