fbpx

ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষন ও প্রতিকার

মানুষকে যে রোগগুলো বেশি ভোগায়, তার মধ্যে ক্যান্সার সবচেয়ে ভীতিকর। ক্যান্সার শরীরে একবার বাসা বেঁধে ফেললে রোগীকে বাঁচিয়ে ফেরানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। ক্যান্সার হয়ে গেলে আরও অনেক রোগ চেপে বসে শরীরে। তখন রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা একেবারে দুঃসাধ্যই হয়ে যায়।

তবে কেউ যদি প্রাথমিক পর্যায়েই এই মরণব্যাধি শনাক্ত করে ফেলতে পারে, তার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানিই উজ্জ্বল থাকে। সেজন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, দুঃখ করার চেয়ে নিজেকে সুস্থ রাখাই দরকার বেশি। তাই শরীরে কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে, বিশেষত উদ্বেগজনক কোনো উপসর্গ বোঝা গেলে, অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

** লক্ষনঃ

১. ক্যান্সার আক্রান্তের প্রথম লক্ষণগুলো খেয়াল করতে হবে : দীর্ঘস্থায়ী আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তিবোধ করেন অথবা অবসাদে ভোগেন তবে সেটা অনেক রোগেরই কারণ হতে পারে, হতে পারে ক্যান্সারও। মলাশয়ের ক্যান্সার বা রক্তে ক্যান্সার হলে সাধারণত এমন উপসর্গ দেখা যায়। তাই, আপনি যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি ক্লান্তিবোধ করেন অথবা দীর্ঘসময় ধরে ক্লান্ত থাকেন, অবিলম্বে চিকিৎসাসেবা নিন।

২. আকস্মিক ওজন হ্রাস : কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ করেই দ্রুতগতিতে যদি ওজন হারাতে থাকেন, তবে ভাবনার কারণ আছে। অনেক ক্যান্সারই সাধারণত হুট করে ওজন কমিয়ে ফেলে। তাই শরীরের ওজনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে সবসময়। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসাসেবায় রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

৩. দীর্ঘদিনের ব্যথা : দৃশ্যত কোনো কারণ (যেমন জখম-আঘাত) ছাড়া যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে শরীরের কোনো স্থানে ব্যথায় ভোগেন, তবে তাতে ওষুধও কাজ না করলে এ নিয়ে ভাবনার কারণ আছে। শরীরের কোনো জায়গায় ব্যথা করছে তার ওপর নির্ভর করছে রোগী ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত নাকি ডিম্বাশয়, পায়ুপথ বা মলাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত।

৪. অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড : আপনি যদি শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোনো মাংসপিণ্ড দেখতে পান অথবা মাংস জমাট হতে দেখেন কিংবা এ ধরনের পরিবর্তন বুঝতে পারেন, তবে এটা তেমন কিছুরই লক্ষণ, যা আপনার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। এমনকি আপনার শরীরে কোনো পরিবর্তন স্বাভাবিক মনে হলেও পর্যবেক্ষণ করুন, এরপর অন্তত চিকিৎসককে জানান।

** প্রতিকার:

১. জর্দা, তামাককে না: ফুসফুস, কিডনি ও মূত্রাশয়ের ক্যানসারের সঙ্গে ধূমপানের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। জর্দা, গুল, তামাক চিবানোর সঙ্গে সম্পর্ক আছে মুখগহ্বর ও প্যানক্রিয়াসের ক্যানসারের। পরোক্ষ ধূমপানও কিন্তু অন্যের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের তামাক, জর্দা ও ধূমপানকে না বলুন।

২. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার: লাল মাংস (যেমন গরু ও খাসি) বেশি বেশি খেলে অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। আবার ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। খেতে হবে প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার। অত্যধিক তাপে তেল ও চর্বি ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। এই ট্রান্সফ্যাট মানবদেহে কারসিনোজেনিক বা ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। বেকারি ও ফাস্টফুডে এই ট্রান্সফ্যাট থাকে। অতিরিক্ত মদ্যপানের সঙ্গেও ঝুঁকি বাড়ে কিছু ক্যানসারের।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ: মুটিয়ে যাওয়ার সঙ্গেও ক্যানসারের সম্পর্ক আছে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে অন্তত কোলন ক্যানসার ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়, এটা প্রমাণিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম ক্যানসারের ঝুঁকি কমাবে।

৪. টিকা গ্রহণ: কিছু টিকা এখন নানা ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে। যেমন হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা নিলে যকৃতের ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। নারীর জরায়ু ক্যানসারের সঙ্গে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এই টিকাও এখন সহজলভ্য।

৪. টিকা গ্রহণ: কিছু টিকা এখন নানা ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে। যেমন হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা নিলে যকৃতের ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। নারীর জরায়ু ক্যানসারের সঙ্গে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এই টিকাও এখন সহজলভ্য।

You May Also Like…

কভিড -১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু লোকের জন্য কম কার্যকর হতে পারে-

কভিড -১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু লোকের জন্য কম কার্যকর হতে পারে-

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এতে ডাক্তাররাও এদের...

কোরবানি ইদের খাবার ও সতর্কতা-

কোরবানি ইদের খাবার ও সতর্কতা-

ইদ হলো আনন্দের দিন, যার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। আর কোরবানির ইদের অন্যান্য খাবারের সাথে মূল আয়োজন হলো বিভিন্ন রকমের...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *